নিউইয়র্কে সরকারি চাকরি করতে চান, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন—তা নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা থাকে। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, আবেদনপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা কোন দপ্তরে কোন পদ খালি রয়েছে—এসব তথ্য খুঁজে বের করাও অনেক সময় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
এই বাস্তবতায় নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পথ সহজ করতে ম্যানহাটনে চালু হলো নতুন “জবস এনওয়াইসি সেন্টার”। লাফায়েত স্ট্রিটের ২ নম্বর ভবনে চালু হওয়া এই কেন্দ্রের মাধ্যমে নিউইয়র্কবাসী সরকারি চাকরির সুযোগ খোঁজা, আবেদন করা, সিভিল সার্ভিসের প্রক্রিয়া বোঝা এবং নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সহায়তা পাবেন।
২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি মেয়র জুলি সু, স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের কমিশনার কেনি মিনায়া এবং সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বিভাগের কমিশনার ইউমে কিতাসেই।
স্মল বিজনেস সার্ভিসেস এবং সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত একটি নগরস্থাপনাকে ক্যারিয়ার সেবার কেন্দ্রে রূপান্তর করেছে। এখানে সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরামর্শ নেওয়া যাবে। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে চাকরির মেলা, কর্মসংস্থানবিষয়ক অনুষ্ঠান, কর্মশালা এবং বিভিন্ন নগর সংস্থার নিয়োগ কার্যক্রম। আগামী ৫ অক্টোবর, সোমবার থেকে এখানে নিয়মিত ওয়াক-ইন সেবা চালু হবে।
জবস এনওয়াইসি সেন্টার শুধু নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নয়। নগর সরকারের বর্তমান কর্মীরাও এখান থেকে পদোন্নতি ও ক্যারিয়ারে অগ্রগতির বিষয়ে সহায়তা পাবেন। ক্যারিয়ার নিয়ে প্যানেল আলোচনা ও কর্মশালা, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সময়সূচি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং ও অ্যাফিনিটি গ্রুপের আয়োজনও থাকবে এখানে।
মেয়র মামদানি বলেন, প্রতিটি নিউইয়র্কবাসীর একটি ভালো চাকরির প্রকৃত সুযোগ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নিজের শহরের সেবা করার সুযোগও এর মধ্যে পড়ে। সরকারি চাকরির পথ এমন হওয়া উচিত নয় যে সেই পথ খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। মামদানি বলেন, জবস এনওয়াইসি সেন্টার নিউইয়র্কবাসীকে সঠিক চাকরির সুযোগ খুঁজে পেতে, নিয়োগ পাওয়ার জন্য কী প্রয়োজন তা বুঝতে এবং সরকারি সেবায় ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
ডেপুটি মেয়র জুলি সু বলেন, শহরজুড়ে অনেকের সঙ্গে কথা বলে তিনি দেখেছেন, তাঁরা মনে করতেন সরকারি চাকরি তাঁদের জন্য নয়। সরকারি চাকরির প্রক্রিয়া তাঁদের কাছে অত্যন্ত জটিল মনে হতো। অনেক কাগজপত্রের প্রয়োজন হতো এবং কোথায় গিয়ে সহায়তা পাওয়া যাবে, সেটিও তাঁরা জানতেন না। জুলি সু বলেন, নতুন এই কেন্দ্র সেই বাস্তবতা বদলাতে সাহায্য করবে। নিউইয়র্কবাসী এখন সরাসরি কেন্দ্রে এসে সহায়তা নিতে পারবেন এবং নিজের শহরে একটি স্থিতিশীল চাকরির পথ খুঁজে নিতে পারবেন।
স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের কমিশনার কেনি মিনায়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি চাকরি নিউইয়র্কবাসীর জন্য স্থিতিশীল ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। নতুন এই কেন্দ্র আরও বেশি মানুষকে সিভিল সার্ভিসে ক্যারিয়ারের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করবে। একই সঙ্গে নগর সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগেও সহায়তা করবে।
সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বিভাগের কমিশনার ইউমে কিতাসেই বলেন, লাফায়েত স্ট্রিটের ২ নম্বরে দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকা একটি জায়গাকে চাকরি কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। একই ভবনের ওপরের তলায় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার কেন্দ্র থাকায় নিউইয়র্কবাসী একই জায়গা থেকে সরকারি চাকরির পুরো প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।
নগর কাউন্সিলের সিভিল সার্ভিস ও শ্রমবিষয়ক কমিটির চেয়ারপারসন শার্লি অলদেবল বলেন, নগরের কর্মীবাহিনীর প্রবাহ উন্নত করা এবং নিয়োগব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, সরকারি চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তোলা গেলে নগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শূন্যপদ পূরণ করাও সহজ হবে।
জবস এনওয়াইসি সেন্টারের উদ্বোধন উপলক্ষে এনওয়াইসি বিজনেস এক্সপ্রেস সার্ভিস টিম বা বেস্টের ১৭ জন নতুন সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান মেয়র মামদানি। বেস্ট হলো স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের একটি ইউনিট। নিউইয়র্ক নগরে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় অনুমতি, লাইসেন্স এবং পরিদর্শনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এই দল। কেন্দ্রটির প্রথম নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে গত আগস্টে এই ১৭ সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
জবস এনওয়াইসি সেন্টার মূলত স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের জবস এনওয়াইসি উদ্যোগেরই সম্প্রসারিত রূপ। ২০২৪ সালে চালু হওয়া এই উদ্যোগ এরই মধ্যে শিক্ষা বিভাগ, এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কসহ ৪৭টি নগর সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের জনবল নিয়োগে সহায়তা করেছে। নতুন এই কেন্দ্র সেই কার্যক্রমকে ম্যানহাটনের কেন্দ্রস্থলে একটি স্থায়ী ঠিকানা দিল।
এখানে চাকরিপ্রার্থীরা সরকারি চাকরির খালি পদ খুঁজে পাওয়া, আবেদনপত্র প্রস্তুত করা, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রক্রিয়া বোঝা এবং নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সাক্ষাৎকার ও নিয়োগ কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হবে এই কেন্দ্রে। নগর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিউইয়র্ক নগরের অনুমোদিত ৩ লাখ ৭ হাজার ১৯৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত ছিলেন ২ লাখ ৯২ হাজার ৮০৮ জন। অর্থাৎ তখনও ১৪ হাজার ৩৯১টি পদ খালি ছিল।
এই বাস্তবতায় জবস এনওয়াইসি সেন্টার একদিকে যেমন নিউইয়র্কবাসীর জন্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের নতুন একটি সরাসরি পথ তৈরি করল, অন্যদিকে নগর সরকারের খালি পদগুলো পূরণে এটি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, সেটিও এখন দেখার বিষয়। জাতীয় কর্মীবাহিনী উন্নয়ন মাসের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে নিয়মিত ওয়াক-ইন সেবা।
