রবিবার, ০৯ আগষ্ট ২০২৬

অভিবাসন আটক বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই বেসরকারি কারা কোম্পানির আয় ১.৪ বিলিয়ন ডলার

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২৬

অভিবাসন আটক বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই বেসরকারি কারা কোম্পানির আয় ১.৪ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আটক কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির দুই বৃহৎ বেসরকারি কারা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোরসিভিক ও জিইও গ্রুপের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে প্রতিষ্ঠান দুটির সম্মিলিত আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার।

ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (এনপিআর) জানিয়েছে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আটক কেন্দ্রে প্রায় ৬৬ হাজার মানুষ আটক রয়েছেন। এই সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোরসিভিকের মোট আয় হয়েছে ৬৮৪.৯ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশের বেশি। প্রতিষ্ঠানটির আয় বৃদ্ধির পেছনে আটক মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমে যাওয়াকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে জিইও গ্রুপ একই সময়ে ৭৩২.১ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির আয় বেড়েছে প্রায় ৯৬ মিলিয়ন ডলার বা ১৫ শতাংশ।

অভিবাসন আটক কেন্দ্র পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান দুটি এখন নজরদারি প্রযুক্তি, পরিবহন ও নির্বাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি চুক্তি থেকেও আয় করছে। বিশেষ করে জিইও গ্রুপ অভিবাসীদের ওপর ইলেকট্রনিক নজরদারির জন্য গোড়ালিতে পরানো ট্র্যাকিং ডিভাইস, স্মার্টওয়াচ ও মোবাইল অ্যাপ সরবরাহ করছে।

কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী জর্জ জোলি জানিয়েছেন, অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের কারণে ইলেকট্রনিক নজরদারি কর্মসূচিতে যুক্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে হাইতিয়ান অভিবাসীদের সুরক্ষিত অভিবাসন মর্যাদা বাতিলের পর এ ধরনের নজরদারির প্রয়োজন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে কোরসিভিক সম্প্রতি চারটি আটক কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কাছে বিক্রি করেছে। এই বিক্রি থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। তবে এই অর্থ চলতি প্রান্তিকের আর্থিক হিসাবে এখনো পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বড় পরিসরে অভিবাসন আটক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কারণে বেসরকারি কারা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কোরসিভিক জানিয়েছে, বিক্রি করা কেন্দ্রগুলো পরিচালনার দায়িত্বও তারা চালিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে আরও আটক কেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ খুঁজছে।

তবে বেসরকারি কারা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক রয়েছে। জিইও গ্রুপের সাবেক নির্বাহী ডেভিড ভেনচুরেল্লা বর্তমানে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্তবিষয়ক কর্মকর্তা টম হোম্যানও অতীতে জিইও গ্রুপের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।

অভিবাসন আটক বাড়ার ফলে একদিকে সরকারের আটক ও নির্বাসন কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে, অন্যদিকে সেই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক আয়ও দ্রুত বাড়ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।