যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ বা সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবরের পর গতকাল রোববার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট করা হয়।
এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তাদের সবচেয়ে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত অভিবাসীদের অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে আইসের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘সবচেয়ে গুরুতর অপরাধীদের’ আগে ধরার বিষয়টি মূলত অগ্রাধিকারের নির্দেশনা; এটি আইসের বিদ্যমান গ্রেপ্তারনীতি পরিবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ নয়। নতুন নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোকে জানানো হয়েছে যে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করা যেকোনো ব্যক্তিকে আইস গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করতে পারে। কোনো অভিযানের সময় অন্য অনিবন্ধিত অভিবাসীকে পাওয়া গেলে তাকেও গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসের গ্রেপ্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, জুলাইয়ে আইস ৪৯ হাজারের বেশি অভিবাসীকে আটক করেছিল; তাঁদের অর্ধেকের বেশি ব্যক্তির কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। প্রশাসন অবশ্য এসব পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
এদিকে অভিবাসন অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে। অভিবাসন অধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা গ্রেপ্তার ও আটকের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
