বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। পেন্টাগনের একটি হিসাবের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত জুলাইয়ের তুলনায় যুদ্ধের ব্যয় বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি।

মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের এই হিসাব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, যুদ্ধের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে।

পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদ নতুন করে মজুত করতে ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান ও ড্রোনের ক্ষতি পূরণে কংগ্রেসের কাছে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ চাওয়া হতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তবে সংঘাতের কারণে সামরিক ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামেও প্রভাব পড়েছে।

যুদ্ধের শুরুতে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। পরে তুলনামূলক কম খরচের বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির সময় ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ অস্ত্রের মজুত ও সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আবার সক্রিয় করে।

এরপর ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয় বন্ধ করতে দেশটির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেন ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দেশ পেলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সংঘাত নিয়ে জনঅসন্তোষ রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর চাপ তৈরি করেছে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলটি।

তবে পেন্টাগনের হিসাবে যুদ্ধ পরিচালনার বিভিন্ন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামতের পুরো ব্যয় স্পষ্ট নয়। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় আরও বাড়তে পারে।