রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৪

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৪

ক্যারিবীয় সাগরে মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত হচ্ছে সন্দেহে একটি নৌকায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে চারজন নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার চালানো এ হামলার পর গত প্রায় এক বছরে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে নৌযানে মার্কিন বাহিনীর হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে মোট ৬৯টি হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু নৌকাটি মাদক চোরাচালানের জন্য পরিচিত একটি পথে চলছিল। এ কারণে নৌকাটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

তবে নৌকাটিতে মাদক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি মার্কিন বাহিনী। হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে একটি চলন্ত নৌকার দৃশ্যের পর বিস্ফোরণ ঘটতে দেখা যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রায় এক বছর ধরে লাতিন আমেরিকায় সন্দেহভাজন মাদক চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে। ট্রাম্প এসব গোষ্ঠীকে ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এখন স্থলভাগেও অভিযান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে কয়েকটি লাতিন আমেরিকান দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত মাসে দাবি করেন, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাস নিজ নিজ দেশে অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। তবে পরে গুয়াতেমালা এ দাবি অস্বীকার করে।

ইকুয়েডরের সঙ্গেও একই ধরনের অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত হচ্ছে সন্দেহে একটি নৌকায় অভিযান চালিয়ে সেটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

ট্রাম্প বলেছেন, মাদক চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ রয়েছে। তাঁর প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ কমাতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

তবে এসব হামলায় নিহত ব্যক্তিরা মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এমন দাবির পক্ষে মার্কিন প্রশাসন এখন পর্যন্ত সীমিত প্রমাণ প্রকাশ করেছে।

২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর এ ধরনের প্রথম হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় একই নৌকায় দুই দফা হামলা চালানো হয়েছিল। প্রথম হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া দুজন পরে দ্বিতীয় হামলায় নিহত হন।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, ওই দুই হামলায় মোট ১১ জন নিহত হন। পরে কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা ও আইন বিশেষজ্ঞ এসব হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেন, প্রথম হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়ে থাকলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।