আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের (ইউএনএএমএ) দুই কর্মী আটক হয়েছেন। আটকের পর দুই দিন ধরে তাঁদের সঙ্গে জাতিসংঘের কোনো যোগাযোগ বা সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি। মঙ্গলবার জাতিসংঘ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপির।
ইউএনএএমএ এক বিবৃতিতে জানায়, গত রোববার পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ‘জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স’-এর কর্মকর্তারা জাতিসংঘের দুই আফগান পুরুষ কর্মীকে আটক করেন।
আটকের কারণ বা তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা জানানো হয়নি। এ বিষয়ে আফগান সরকারের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দপ্তর আটক কর্মীদের বিশেষ মর্যাদা ও অধিকারকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে। গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি এবং তাঁদের সঙ্গে দেখা করারও অনুমতি দেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ও এর কর্মকর্তাদের বিশেষ মর্যাদা, অধিকার ও দায়মুক্তির বিষয়গুলো মেনে চলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালেবানের ক্ষমতা দখলের পঞ্চম বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে এই আটকের ঘটনা ঘটল। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসে।
স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আফগানিস্তানজুড়ে জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা কাজ করছে। তবে দেশটিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তাজনিত বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ইউএনএএমএর এক প্রতিবেদনে আফগান কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বলপ্রয়োগ, গ্রেপ্তার ও আটকসংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করার পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে তালেবান আফগানিস্তান শাসন করছে। তারা ইসলামী আইনের কঠোর ব্যাখ্যার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করছে। এ সময়ে নারী ও মেয়েদের অধিকার এবং মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আফগান নারীদের জাতিসংঘের বিভিন্ন স্থাপনায় প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর আওতায় পড়েছেন জাতিসংঘের নারী কর্মীরাও।
গত জুনে হেরাত প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছে প্রায় ২০ জন ত্রাণকর্মীকে আফগানিস্তানের নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ আটক করেছিল। তাঁদের দাড়ি যথেষ্ট লম্বা না হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এএফপি একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাতিসংঘের অংশীদার বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিরাও ছিলেন।
এর আগে জুনের শুরুতে তালেবান সরকারের নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ কয়েক ডজন নারীকে আটক করে। সরকারি পোশাকবিধি লঙ্ঘন করে শরীর পুরোপুরি ঢেকে রাখে এমন চাদর বা বোরকা না পরার অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়েরের (এমএসএফ) একজন হাসপাতালকর্মীও ছিলেন। সংস্থাটি ওই আটকের তীব্র নিন্দা জানায়।
এসব বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিরল এক বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমন করা হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত হন।
এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় আফগানিস্তানের মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরান ও পাকিস্তান থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাখ লাখ আফগান নাগরিকের দেশে ফিরে আসা।
