বুধবার, ১২ আগষ্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা অচল, বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা অচল, বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা নিয়ে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।

মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ০৯ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৫২ ডলারে। দুই ধরনের তেলের দামই ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এর আগে সোমবারও তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছিল। ইরানের শান্তি চুক্তির শর্তের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা কিছু দাবি তোলার পর বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ট্রাম্প ইরানের কাছে যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ বা সীমিত থাকলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন এমন এক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে কে আগে ছাড় দেবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ থেকে ৯৫ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে ভোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ব্যয়ও বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পরিবর্তে আবারও বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদেরা।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ায় বিভিন্ন বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, শাফাক নিউজ এজেন্সি