বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

নিউইয়র্কে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স ইউএসএর সেমিনার

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

বুধবার, মে ২০, ২০২৬

নিউইয়র্কে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স ইউএসএর সেমিনার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মিডটাউন ম্যানহাটনে “বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্র সংস্কার” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ মে (শনিবার) অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স ইউএসএ আহ্বায়ক কমিটি। সেমিনারে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সামাজিক পরিবর্তন, সাংস্কৃতিক রূপান্তর এবং রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শেখ সাকিব ও তৌকির চৌধুরী। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে স্বাগত বক্তব্য এবং সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক রিদওয়ান হোসেন অক্ষর।

সেমিনারে জুলাই পুনর্জাগরণ এবং জুলাই বিপ্লবে নারীদের ভূমিকা নিয়ে নির্মিত দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচনায় অংশ নেন হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মির্জা গালিব, কবি ও গণবুদ্ধিজীবী কাজী জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ খান, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট রওশন হক, বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নিউইয়র্কের উপদেষ্টা সৈয়দ আলী আমিন রাসেল এবং আমেরিকান বাংলাদেশি ইনিশিয়েটিভের আহ্বায়ক প্রফেসর ইমাম চৌধুরী।

এছাড়া ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স ইউএসএ কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক নাজনীন নাহার সুলতানা, যুগ্ম সদস্য সচিব ও ব্যবসায়িক পেশাজীবী আজওয়াদ হায়দার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও পিএইচডি গবেষক মুনা হাফসা এবং কেন্দ্রীয় সদস্য রাসেল আলম।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে গণঅভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বৈষম্য ও জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। অন্যায়, অগণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিহীন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান রাষ্ট্র, সমাজ ও সংস্কৃতির সামগ্রিক পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

তারা আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন।

আলোচকরা বিদ্যমান কর্তৃত্ব কাঠামোকে প্রশ্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে জুলাই শহীদ ও আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের চেতনাকে বিকশিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা, কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং আন্দোলনের ইতিহাসকে বই আকারে সংরক্ষণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, জুলাই সনদ ও প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যাপক জনমত গঠন এবং সংগঠিত আন্দোলন জোরদার করা জরুরি। তারা মন্তব্য করেন, সংস্কার না হলে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আন্দোলনের মাধ্যমেই এগিয়ে যাবে।

এছাড়া জুলাই শহীদদের সঠিক তালিকা প্রণয়নে সরকার ব্যর্থ হলে আন্দোলনের পক্ষের সংগঠনগুলোকে সেই দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। প্রতিটি শহীদের জীবনগাথা সংরক্ষণ, নাটক নির্মাণ এবং জুলাইকে কেন্দ্র করে গান, কবিতা ও সাহিত্যচর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার মাধ্যমেই রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা টিকে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের পথ আরও সুদৃঢ় হবে।