বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

নিউইয়র্ক সিটি স্কুলে অ্যান্টি-চোকিং ডিভাইস বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ ঘিরে বিতর্ক

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

বুধবার, মে ২০, ২০২৬

নিউইয়র্ক সিটি স্কুলে অ্যান্টি-চোকিং ডিভাইস বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ ঘিরে বিতর্ক

নিউইয়র্ক সিটি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যান্টি-চোকিং বা শ্বাসনালী পরিষ্কার করার ডিভাইস বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও এবং কিছু বাস্তব উদ্ধার ঘটনার কারণে এসব যন্ত্রের প্রতি আগ্রহ বাড়লেও এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।

জানা গেছে, এই ধরনের ডিভাইস মূলত হাতে ধরা যন্ত্র, যা শ্বাসনালীতে আটকে থাকা খাবার বা বস্তু অপসারণের জন্য সাকশন তৈরি করে কাজ করে। ২০২১ সালে দক্ষিণ ক্যারোলিনার একটি রেস্টুরেন্টে ১০ মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করার ঘটনায় লাইফভ্যাক নামের একটি ডিভাইস আলোচনায় আসে। পরে ২০২৩ সালে ওহাইওতে পুলিশের বডিক্যাম ফুটেজে এমন একটি ডিভাইস ব্যবহার করে একটি শিশুকে বাঁচানোর ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল সম্প্রতি একটি আইন পাস করেছে। যেখানে শহরের প্রতিটি স্কুল ভবনে এসব ডিভাইস রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে আইনটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। কারণ, এটি কার্যকর হতে হলে শিশুদের ক্ষেত্রে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদন এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বা আমেরিকান রেড ক্রসের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রয়োজন।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি হলো হেইমলিখ ম্যানুভার এবং ব্যাক ব্লো বা চেস্ট থ্রাস্ট। তাদের মতে, এসব পদ্ধতির তুলনায় অ্যান্টি-চোকিং ডিভাইস কতটা কার্যকর, তা নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত স্বাধীন মানবভিত্তিক গবেষণা নেই। কিছু পরীক্ষায় আবার দেখা গেছে, বারবার ব্যবহারে শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আমেরিকান রেড ক্রস, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও বলছে, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রথমে প্রচলিত জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতিগুলোই ব্যবহার করা উচিত এবং এসব ডিভাইস কেবলমাত্র বিকল্প বা ব্যাকআপ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

অন্যদিকে লাইফভ্যাক ডিভাইসের নির্মাতারা দাবি করছেন, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এটি জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে এবং এটি জরুরি পরিস্থিতিতে একটি সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

সম্প্রতি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন লাইফভ্যাককে নির্দিষ্ট শর্তে বাজারজাত করার অনুমতি দিলেও সতর্ক করে জানিয়েছে, এর ব্যবহার নিয়ে নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সাবেক সদস্য ক্রিস্টি মারমারোটা বলেন, তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। প্রায় ৩০ বছর আগে রেস্টুরেন্টে শ্বাসরোধের ঘটনায় তার দাদাকে হারানোর অভিজ্ঞতা তাকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তার মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচানোর জন্য অতিরিক্ত একটি উপায় থাকা উচিত এবং সেই কারণেই তিনি স্কুলগুলোতে এসব ডিভাইস রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে জরুরি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডারিয়া লং বলেন, একজন চিকিৎসক ও মা হিসেবে তিনি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছেন। তার মতে, এখন পর্যন্ত স্বাধীন মানবভিত্তিক গবেষণায় হেইমলিখ ম্যানুভারের তুলনায় এসব ডিভাইস বেশি কার্যকর—এমন শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, কিছু পরীক্ষায় দীর্ঘ ব্যবহারে শারীরিক জটিলতার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

লাইফভ্যাকের নির্মাতা আর্থার লিহ বলেন, দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষার পরই ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তাদের পণ্যকে বাজারজাতের অনুমতি দিয়েছে। তার দাবি, সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে এই ডিভাইস অনেক ক্ষেত্রে জীবন রক্ষায় সহায়ক হতে পারে এবং এটি জরুরি পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।