লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ঠেকাতে বিল আনছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন শুরু হলে তিনি ‘হ্যান্ডস অফ আওয়ার গ্রেট লেকস অ্যাক্ট’ নামের বিলটি উত্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।
বিলটি পাস হলে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ কার্যকর থাকবে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মানচিত্র, নথিপত্র ও তথ্যভান্ডারে লেকটির প্রচলিত নাম ‘লেক অন্টারিও’ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
গত বৃহস্পতিবার লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত আসে।
মিশিগানের কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্ক কতটা গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে জড়িত, তা অনেকেই বোঝেন না। লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে তিনি ‘উন্মাদনা’ বলে মন্তব্য করেন।
ডিঙ্গেল জানান, কানাডার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের শতাধিক ডেমোক্র্যাট সদস্য একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।
নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও। তিনি ‘লেক অন্টারিও। এখন এবং চিরকাল’ লেখা একটি বড় সাইনবোর্ড উন্মোচন করেন।
এর জবাবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁকে ‘ওয়াইএমসিএ’ গানের সঙ্গে নাচতে নাচতে ‘লেক অন্টারিও’ লেখা সাইনবোর্ড সরিয়ে ‘লেক আমেরিকা’ লেখা সাইনবোর্ড বসানোর দৃশ্য দেখানো হয়।
লেকটির নাম পরিবর্তন নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য বিরোধও চলছে। কানাডার ইস্পাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। জবাবে কানাডাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে।
ট্রাম্প তাঁর বাণিজ্যনীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, বহু বছর ধরে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, শুল্ক এড়াতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসছে।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল ম্যাপেও লেকটির নাম ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এদিকে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কানাডার ওপর ‘আক্রমণ’ চালিয়েছে। তবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ডিঙ্গেলের প্রস্তাবিত বিলটি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
