মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার নিজ শহরে ফিরে রিপাবলিকানদের হয়ে নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণা চালিয়েছেন। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও তিনি জানান দিয়েছেন।
ওহাইও অঙ্গরাজ্যের মিডলটাউনে একটি ইস্পাত কারখানায় বক্তব্য দেন ভ্যান্স। তাঁর দাদা সেখানে প্রায় ৪০ বছর ওয়েল্ডার হিসেবে কাজ করেছেন। নীল-কলার শ্রমজীবী মানুষের শহর হিসেবে পরিচিত মিডলটাউন ভ্যান্সের ২০১৬ সালে প্রকাশিত বেস্টসেলার বই ‘হিলবিলি এলিজি’-তেও উঠে এসেছে।
বইটিতে অবহেলিত ‘রাস্ট বেল্ট’ অঞ্চলে তাঁর দারিদ্র্যপীড়িত শৈশবের কথা তুলে ধরেছিলেন ভ্যান্স। এই অঞ্চল থেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলনের শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে চাইলে ট্রাম্পের এই সমর্থকদের আকৃষ্ট করাটা ভ্যান্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তবে ভ্যান্সের শুক্রবারের প্রচারণার মূল লক্ষ্য ছিল নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন আদায় করা। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে রয়টার্স ও ইপসোসের পরিচালিত এক জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তাঁর বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন।
মিডলটাউনের বক্তব্যে ভ্যান্স তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী সুরে কথা বলেন। তিনি শ্রমজীবী পরিবারে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেও ট্রাম্পের মতো কঠোর ও বিভাজনমূলক ভাষা অনেকটাই এড়িয়ে যান।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমার দাদাকে মনে পড়ে… তিনি প্রায় ৪০ বছর ওয়েল্ডার হিসেবে এই জায়গায় কাজ করেছেন।’
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ট্রাম্পের নীতির বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভিন্নমত পোষণকারী হিসেবে পরিচিত ভ্যান্স বলেন, তাঁর দাদার প্রত্যাশা ছিল খুবই সাধারণ। এর মধ্যে একটি ছিল, ‘আমেরিকাকে যেন কখনো বিশ্বের পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে না হয়।’
ট্রাম্প প্রশাসন ‘জীবনযাত্রার ব্যয়’সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি করছে বলেও দাবি করেন ভ্যান্স। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও ট্রাম্প এর দায় অস্বীকার করে আসছেন এবং বিষয়টিকে ডেমোক্র্যাটদের ছড়ানো প্রচারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তবে ৪২ বছর বয়সী ভ্যান্স অভিবাসন ও তথাকথিত ‘ওক’ রাজনীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের কঠোর সমালোচনা করেন।
নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেরিয়ে আসুন এবং নিজেদের জন্য লড়াই করুন। চরম বামপন্থীরা যারা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, তাদের বলুন, এটি আপনাদের দেশ নয়। এটি আমাদের দেশ এবং আমরা এর জন্য লড়ব।’
ট্রাম্প তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ না থাকায় ২০২৮ সালের নির্বাচনে তাঁকে উত্তরসূরি হিসেবে কে প্রতিস্থাপন করবেন, সেই প্রতিযোগিতা মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর জোরালো হওয়ার কথা।
ভ্যান্স এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। তবে ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন তিনি। অবশ্য ট্রাম্পের তুলনায় তাঁর বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা সংযত।
রিপাবলিকান দলের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ভ্যান্স প্রার্থী হলে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে রুবিও জানিয়েছেন।
তবে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এমারসন কলেজ ও ‘দ্য হিল’-এর এক জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য পাঁচটি নির্বাচনী লড়াইয়ের মধ্যে চারটিতেই সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভ্যান্সের চেয়ে রুবিও ভালো ফল করেছেন।
এদিকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়ের পর দলটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দলের বামপন্থী অংশের প্রার্থীরা প্রাথমিক নির্বাচনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছেন। একই সময়ে মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটরা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মতো সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের প্রস্তাব থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন।
