দুই দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল, কিন্তু বিচারপ্রার্থীরা পেলেন না কাঙ্ক্ষিত রায়। ২০০৬ সালে মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা পবনরাজ নিম্বালকর হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন মুম্বাইয়ের একটি বিশেষ আদালত। শনিবার (২০ জুন) আদালত এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলে আসা এই মামলায় ১২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নিম্বালকর এবং তার গাড়ির চালক সামাদ কাজী, যাদের ২০০৬ সালের ৩ জুন নভি মুম্বাইয়ের কালমবোলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন নিম্বালকর পরিবারেরই সদস্য এবং এনসিপির (ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি) সাবেক সংসদ সদস্য পদামসিংহ পাতিল। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং স্থানীয় চিনিকল পরিচালনার বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ ছিল। মামলার তদন্তভার পরে সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিবিআইয়ের চার্জশিটে পাতিলকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
২০১১ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলে দীর্ঘসময় ধরে। এমনকি প্রখ্যাত সমাজকর্মী আন্না হাজারেও এ মামলায় সাক্ষী হিসেবে হাজিরা দিয়েছিলেন। পরসমল জৈন নামের এক আসামি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, পাতিল একইভাবে আন্না হাজারেকেও হত্যার জন্য চুক্তি করেছিলেন।
আদালতের এই রায়ে ক্ষুব্ধ সিবিআই। মামলার তদন্তকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট অকাট্য প্রমাণ ছিল। তাই আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবে।
পবনরাজ নিম্বালকর ওসমানাবাদ (বর্তমানে ধারাশিব) জেলার একজন প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে পদামসিংহ পাতিলের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিপরীতে তিনি দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন। নিম্বালকর ও পাতিলের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি এবং চিনিকল সংক্রান্ত বিরোধই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। নিম্বালকর হত্যাকাণ্ডের সময় তার ছেলে ও বর্তমান শিবসেনা (ইউবিটি) সংসদ সদস্য ওমরাজে নিম্বালকর আদালতে জানিয়েছিলেন, জীবনের শেষ দিকে তার বাবা পদামসিংহ পাতিলের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি থানায় অভিযোগও করেছিলেন।
এই রায় মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই দশক ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের শেষে খালাস পেয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নিম্বালকর পরিবারের সদস্যরা।
