নিউইয়র্ক সিটিতে চলমান বাজেট সংকট ঘিরে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং সিটির মেয়র জোহরান মামদানি দুজনের মধ্যে অর্থায়ন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, নিউইয়র্ক রাজ্যের ২৬৩ বিলিয়ন ডলারের বাজেট এখনো পাস হয়নি। যা নির্ধারিত সময়ের ২৫ দিনেরও বেশি দেরিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে শহরের বাজেট প্রক্রিয়াতেও।
মেয়র জোহরান মামদানি ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা চাচ্ছেন। তবে গভর্নর হোকুল জানিয়েছেন, প্রথমে সিটি প্রশাসনকে নিজেদের আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে, তারপরই রাজ্য থেকে অতিরিক্ত অর্থায়ন বিবেচনা করা হবে।
সূত্র অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে মেয়র তার নির্বাহী বাজেট ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তবে এ সিদ্ধান্ত নিতে হলে সিটি কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য বাজেট বিলম্বিত হওয়ায় শহরের বাজেটও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক রায়ান অ্যাডামস বলেন, রাজ্য বাজেট যত দেরি হবে, শহর ততই সিদ্ধান্তহীনতায় থাকবে। এর ফলে জনসেবা খাতে চাপ বাড়বে।
অন্যদিকে গভর্নর হোকুল ইতোমধ্যে শহরের ঘাটতি পূরণে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা এবং শিশুদের জন্য বিনামূল্যে কেয়ার কর্মসূচিতে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া দ্বিতীয় বাড়ির ওপর নতুন কর আরোপের প্রস্তাব থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বাজেট ঘাটতি কমাতে সিটি প্রশাসনের কিছু ব্যয় সংকোচন উদ্যোগ থাকলেও বড় ধরনের কাটছাঁট নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে। পেনশন তহবিলের অর্থপ্রদান পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে রাজ্য ও সিটি প্রশাসনের এই টানাপোড়েনের ফলে বেসরকারি সংস্থা ও জনসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও অর্থ সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
