সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সুপার টাইফুন ‘বাভি’র আঘাতে লন্ডভন্ড মার্কিন দ্বীপপুঞ্জ

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

সোমবার, জুলাই ৬, ২০২৬

সুপার টাইফুন ‘বাভি’র আঘাতে লন্ডভন্ড মার্কিন দ্বীপপুঞ্জ

ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমান শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ ও গুয়ামে আঘাত হেনেছে। এতে ছোট দ্বীপ রোটায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো জানা যায়নি।

মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টাইফুনটির কেন্দ্র রোটা দ্বীপের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৯০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যায়। পরে এটি ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে সরে যেতে শুরু করে।

ঝড়ের আগে রোটার প্রায় ১ হাজার ৫০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ কক্ষ বা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবল বাতাস ও বন্যায় বহু ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি মোবাইল ফোন টাওয়ার ভেঙে পড়ায় কয়েকটি এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এনডব্লিউএস সতর্ক করে জানিয়েছে, রোটার অনেক এলাকায় কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক নাও হতে পারে। দ্বীপটির গাছপালা ও অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে গুয়ামে ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। এতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে বাতাস এবং ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ঝড়ের প্রভাবে গুয়ামের বিভিন্ন হোটেলে কয়েকশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেক দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ভবনের জানালায় প্লাইউড লাগিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এপ্রিলে আঘাত হানা একটি শক্তিশালী টাইফুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় কয়েক দিন আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছিল। নতুন এই ঝড়ে আবারও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং এল নিনোর প্রভাবে চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড় সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাও সতর্ক করে জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে এ মৌসুমে ক্রান্তীয় ঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।