সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

১০ দেশের অংশগ্রহণে নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ভেসাক ডে উদযাপন

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬

১০ দেশের অংশগ্রহণে নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ভেসাক ডে উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক ভেসাক ডে ২০২৬’। রোববার (২৮ জুন) জ্যাকসন হাইটসের পিএস ৬৯কিউ বিদ্যালয় মিলনায়তনে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট কমিউনিটি অব নিউইয়র্ক ইনকের উদ্যোগে এবং বিশ্বের ১০টি দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে এই বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, চীন, জাপান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও তিব্বতের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ৩৩টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ভিক্ষু-ভিক্ষুণী এবং শত শত পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। নিউইয়র্কের ইতিহাসে এই প্রথম বিভিন্ন বৌদ্ধ ঐতিহ্যের অনুসারীরা ১০টি দেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে একই ছাদের নিচে ঐক্যবদ্ধভাবে ভেসাক ডে উদযাপন করলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। সফল আয়োজনের জন্য আয়োজকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “মহামতি বুদ্ধের শান্তি, করুণা, সহানুভূতি, প্রজ্ঞা ও সহনশীলতার শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বিশ্বের অন্যতম সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের শহর নিউইয়র্কে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল সমাজ গঠনে বুদ্ধের আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈচিত্র্য কখনো বিভেদের কারণ নয়, বরং এটিই নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম প্রধান শক্তি।”

সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় দিনব্যাপী আয়োজন। বৌদ্ধ ধর্মীয় পতাকা, বুদ্ধের বাণীসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন, পদ্মফুল ও প্রদীপের আলোয় সেজে ওঠে পুরো মিলনায়তন। বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট কমিউনিটি অব নিউইয়র্কের সাধারণ সম্পাদক অমিত বড়ুয়ার সঞ্চালনায় প্রথাগত প্রার্থনা এবং বুদ্ধের উদ্দেশ্যে ফুল, ধূপ ও প্রদীপ নিবেদনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

পরে বিভিন্ন বৌদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বকারী ভিক্ষুগণ পালি, সংস্কৃত, তিব্বতিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ভাষায় সূত্রপাঠ ও বৌদ্ধগীতি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উদযাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট বৌদ্ধ নেতা উরগেন শেরপা। আশীর্বাণী প্রদান করেন বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট বিহার অব নিউইয়র্কের অধ্যক্ষ ভদন্ত মুদিতা রত্ন থের। পঞ্চশীল প্রদান করেন ভদন্ত কোট্টাওয়া নন্দ ভিক্ষু। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আগত ভদন্ত ইউ পঞ্ঞা দীপ ভিক্ষু সংক্ষিপ্ত ভাবনা পরিচালনা করেন এবং করণীয় মেত্তা সূত্র থেকে পাঠ করেন ড. জিনপ্রিয় মহাথেরো।

দুপুরের আহারের পর শত শত মানুষের অংশগ্রহণে বের হয় একটি বর্ণাঢ্য শান্তি শোভাযাত্রা। ধর্মীয় পতাকা, রঙিন ছাতা ও ব্যানার হাতে অংশগ্রহণকারীরা বুদ্ধ বন্দনা ও শান্তির স্লোগানে জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। আয়োজকদের দাবি, নিউইয়র্কের ইতিহাসে এই প্রথম জ্যাকসন হাইটসের ব্যস্ততম এলাকার চারটি প্রধান সড়ক বন্ধ করে এমন আন্তর্জাতিক ভেসাক ডে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হলো।

বিকেলের দ্বিতীয় পর্বে উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক রূপক বড়ুয়ার স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে মূল আলোচনা সভা ও ধর্মদেশনা শুরু হয়। এ পর্বে প্রধান ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডার অন্টারিওর ওয়েস্ট এন্ড বৌদ্ধ টেম্পল অ্যান্ড মেডিটেশন সেন্টারের আবাসিক ভিক্ষু ভদন্ত ড. শরণপাল ভিক্ষু। এছাড়াও ধর্মদেশনা ও বক্তব্য প্রদান করেন তিব্বতি আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার শিষ্য হিজ এমিনেন্স গেগ্যে ইয়ংয়াল রিনপোছে, জাপানের ভদন্ত টি. কে. নাকাগাকি, শ্রীলঙ্কার ভদন্ত ধম্মাজ্যোতি থের, চীনের ভদন্ত ইউ লিন, মিশিগান থেকে আগত ভদন্ত ধর্মানন্দ মহাথেরো এবং ভদন্ত বিশুদ্ধবংশ থের।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট কমিউনিটি অব নিউইয়র্কের সভাপতি শুভাশীষ বড়ুয়া এবং উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব সাম্যশ্রী বড়ুয়া। সবশেষে বাংলাদেশ, তিব্বত, নেপাল, মিয়ানমার ও ভুটানের শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই আন্তর্জাতিক উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।