সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ট্রাম্পের নতুন আইস প্রধান: অভিবাসীদের জন্য কি আরও কঠিন সময় আসছে?

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬

ট্রাম্পের নতুন আইস প্রধান: অভিবাসীদের জন্য কি আরও কঠিন সময় আসছে?

হোয়াইট হাউসের একটি নিয়োগ অনেক সময় হাজার হাজার মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ২৭ জুন শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক তেমনই একটি সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা—আইস (ICE)-এর নতুন পরিচালক হচ্ছেন ওকলাহোমার অবসরপ্রাপ্ত স্টেট ট্রুপার ল্যান্স শ্রয়ার।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় শ্রয়ারের অভিজ্ঞতা প্রায় তিন দশকের। তাঁকে তিনি একজন “প্রকৃত দেশপ্রেমিক” বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, ওকলাহোমার প্রতিটি কাউন্টিতে তিনি পরপর তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন।

 যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ অভিবাসীর কাছে এ নিয়োগের অর্থ অনেক বড়। কারণ আইস শুধু এমন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, যার নাম শুনলে অনেক অভিবাসী পরিবারের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। কর্মস্থলে অভিযান, বাড়িতে গ্রেপ্তার, আটক, বহিষ্কার—এসবের কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকে আইস।

২০১৭ সালের পর থেকে এই সংস্থার কোনো স্থায়ী পরিচালক সিনেটের অনুমোদন পাননি। রাজনৈতিক বিভাজন, অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র মতপার্থক্য এবং আইসকে ঘিরে বিতর্ক—সব মিলিয়ে পদটি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির ছিল। একের পর এক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে সংস্থাটি চলেছে।

এমন এক সময়ে ল্যান্স শ্রয়ারকে সামনে আনা হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অনিয়মিত অভিবাসন দমনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

শ্রয়ারের পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি দীর্ঘদিন ২৮৭(জি) নামের একটি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফ অফিসগুলো আইসের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে পারে। অর্থাৎ, অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের দায় শুধু ফেডারেল সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সেই কাজে যুক্ত করা হয়।

ট্রাম্প এই অভিজ্ঞতাকেই তাঁর সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষায়, শ্রয়ার “সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের রাস্তা থেকে সরিয়েছেন এবং বেআইনি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন।”

তবে সমালোচকদের প্রশ্নও কম নয়। জাতীয় পর্যায়ে ল্যান্স শ্রয়ার খুব পরিচিত কোনো নাম নন। তাঁর প্রকাশ্য পেশাগত তথ্যও খুব সীমিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় কোনো জাতীয় নিরাপত্তা বা অভিবাসন নীতির বিতর্কে তাঁকে দেখা যায়নি। ফলে এমন একটি বিশাল ফেডারেল সংস্থা পরিচালনায় তাঁর প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন কৌশল ধীরে ধীরে এমন একটি মডেলের দিকে যাচ্ছে, যেখানে স্থানীয় পুলিশ, কাউন্টি শেরিফ এবং ফেডারেল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়বে। এই নিয়োগ সেই কৌশলেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

এখন চোখ থাকবে সিনেটের দিকে। স্বাধীনতা দিবসের ছুটি শেষে আইনপ্রণেতারা ওয়াশিংটনে ফিরবেন। রিপাবলিকানরা দ্রুত অনুমোদন চাইবেন, আর ডেমোক্র্যাটরা আইসের ক্ষমতা, জবাবদিহি ও মানবাধিকার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। ফলে অনুমোদনের পথ পুরোপুরি মসৃণ হবে—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

কিন্তু সিনেটের ভোটের আগেই একটি বিষয় পরিষ্কার। ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে কোনো ধরনের নরম বার্তা দিতে চান না। বরং তিনি এমন একজন কর্মকর্তাকে সামনে আনছেন, যার পুরো কর্মজীবন কঠোর আইন প্রয়োগের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু ওয়াশিংটনের ক্ষমতার করিডরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়বে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস কিংবা ফ্লোরিডার হাজারো অভিবাসী পরিবারের ওপর। বাংলাদেশিসহ বহু অভিবাসী সম্প্রদায় এখন আরও সতর্ক হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।