বুধবার, ২৬ আগষ্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে দুই লাখ মানুষের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে দুই লাখ মানুষের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থী, এমন বিদেশিদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এটিকে দেশটির অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন বিদেশিদের শনাক্ত করা হবে, যারা ব্যবসা বা পর্যটনের মতো স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু পরে দেশটিতে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।

এপির হাতে থাকা মার্কিন সরকারি নথি ও কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের আওতায় প্রায় দুই লাখ মানুষের ভিসা বাতিল হতে পারে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটবে।

২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বি-১ ও বি-২ ভিসাধারীদের মধ্যে যারা আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থী, তাদের ভিসা বাতিলের আওতায় আনা হবে। বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য এবং বি-২ ভিসা পর্যটনের জন্য দেওয়া হয়।

তবে ভিসা বাতিলের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে। যাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনো বিচারাধীন, তাদের ক্ষেত্রে মূলত ভিসার ধরন পরিবর্তন করা হতে পারে। অর্থাৎ তারা আশ্রয়ের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন, তবে ব্যবসা বা পর্যটনের ভিসাধারী হিসেবে আর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয়ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ করে আসছেন। মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও বলেছেন, দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ‘ভিত্তিহীন আশ্রয়ের আবেদন’ দিয়ে চাপে রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করেছে। এর সঙ্গে নতুন করে প্রায় দুই লাখ ভিসা বাতিলের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি আরও বিস্তৃত হবে।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফেরার পর তার প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। এর মধ্যে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি ব্যাপক ধরপাকড় ও বহিষ্কার অভিযানও রয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ, কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় ও অনিরাপত্তা বাড়ছে। এসব নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেও একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।