বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চার বছরের ভিসা-সীমা আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চার বছরের ভিসা-সীমা আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার মেয়াদ চার বছরে সীমিত করার নতুন অভিবাসন বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকিয়ে দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। দেশটির ডিস্ট্রিক্ট জজ এফ. ডেনিস সেলার চতুর্থ মঙ্গলবার এই বিধির কার্যকর তারিখ স্থগিত করে দেশব্যাপী প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

নতুন বিধিটি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এতে এফ-১ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় চার বছরে সীমিত করার পাশাপাশি জে-১ ভিসাধারীদের জন্যও নির্দিষ্ট চার বছরের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিদেশি সাংবাদিকদের জন্যও ২৪০ দিনের সীমা রাখার কথা ছিল।

বিচারক তার ৪৮ পৃষ্ঠার আদেশে বলেন, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) বিধিটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। বিশেষ করে বিধিটির সম্ভাব্য ব্যয় ও প্রভাব যথাযথভাবে হিসাব না করা, বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা না করা এবং জনমত গ্রহণের সময় পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যের পর্যাপ্ত জবাব না দেওয়ার বিষয়গুলো তিনি উল্লেখ করেন।

আদালতের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার, গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাবসহ বিধিটির বিভিন্ন ব্যয় ডিএইচএস যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও জালিয়াতি প্রতিরোধের সঙ্গে চার বছরের সীমার যৌক্তিক সম্পর্কও বিভাগটি যথেষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি বলে আদালত উল্লেখ করেন।

মামলাটিতে প্রায় ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠন যুক্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন, নাফসা, অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট কলেজেস অ্যান্ড ইউনিভার্সিটিজ ইন ম্যাসাচুসেটস এবং কয়েকটি শ্রমিক ও সাংবাদিক সংগঠন রয়েছে।

আদালতের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে স্বস্তি প্রকাশ করা হয়েছে। নাফসার নির্বাহী পরিচালক ও সিইও ফান্তা আও বলেন, এই আদেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একটি ন্যায্য ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবস্থা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তবে আদালত এখনই বিধিটি পুরোপুরি বাতিল করেননি। শুধু এর কার্যকর তারিখ স্থগিত করা হয়েছে। ফলে মামলার পরবর্তী শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন চার বছরের সীমা কার্যকর হচ্ছে না। সরকার চাইলে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।