ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার দুই নেতার মধ্যে এ ফোনালাপ হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একজন করে কর্মকর্তার বরাতে দুই নেতা ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পকে চাপ দেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দুই নেতার কথোপকথন ছিল ‘কঠোর’। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তা একে ‘সরাসরি’ আলোচনা বলে বর্ণনা করেছেন।
আট মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসন একই সঙ্গে সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ইরানে বিমান হামলাসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর এবং বিশ্বে তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নেওয়া বাকি রয়েছে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তাড়াহুড়া নেই। তাঁর দাবি, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই ফোনালাপের আগে শনিবার ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, স্থগিত হয়ে যাওয়া আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন তিনি।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। পেট্রলের দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইরান যুদ্ধ ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
