যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ৫১ জন মুসলিম-আমেরিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন কংগ্রেসের আসনের জন্য লড়ছেন। অন্য ৩৯ জন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কাউন্টি ও স্থানীয় বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের অধিকাংশই ডেমোক্রেটিক পার্টির।
এবারের নির্বাচনে বিশেষ নজর রয়েছে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনের দিকে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও চিকিৎসক আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান পার্টির সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স।
নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন এল-সায়েদ।
এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদে পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন পরিচিত কয়েকজন মুসলিম রাজনীতিক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইলহান ওমর, রাশিদা তালাইব ও আন্দ্রে কারসন। নতুন প্রার্থীদের কয়েকজন নিজ নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেয়েছেন।
তবে প্রার্থীদের ধর্মীয় পরিচয় ঘিরে নির্বাচনী প্রচারে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবদুল এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এল-সায়েদ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত মুসলিম জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ২৫৫। তাঁদের মধ্যে ১১০ জন নারী।
এবারের নির্বাচনের ফলাফল, বিশেষ করে মিশিগানের সিনেট আসনে আবদুল এল-সায়েদের জয়-পরাজয়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
