যুক্তরাষ্ট্রের এইচ–১বি ভিসা কর্মসূচি এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগে ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইতিমধ্যে একাধিক সমন জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।
বুধবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকি শহরের এক অনুষ্ঠানে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছেন।
তদন্তে এইচ–১বি ভিসা কর্মসূচি এবং স্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য শ্রম সনদ প্রদানের প্রক্রিয়ায় ভিসা জালিয়াতি, বিদেশি কর্মীদের শোষণ, মজুরি–সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব এবং মানবপাচার–সংশ্লিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
ভ্যান্স বলেন, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ করে দিতেই এইচ–১বি কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। তবে কিছু নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও মধ্যস্থতাকারী এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে শ্রমবাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে অভিবাসন ও শ্রম আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত শুধু প্রযুক্তি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তিসহ যেসব খাতে এইচ–১বি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, সেসব ক্ষেত্রেও অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হবে।
শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো বলেন, তদন্তে এমন অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে যে কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে মজুরি আদায় করেছে, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেখিয়ে ভিসা নিয়েছে, কর্মীদের শোষণ করেছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এইচ–১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি দক্ষ কর্মীকে সাময়িকভাবে নিয়োগ দিতে পারে। অন্যদিকে, স্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য শ্রম সনদ কর্মসংস্থানভিত্তিক অনেক স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদনের জন্য বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে নিয়োগকারীকে প্রমাণ করতে হয়, সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য কোনো মার্কিন নাগরিক পাওয়া যায়নি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্মকর্তারা বলেছেন, তদন্ত এখনো চলমান। এ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি এবং কাউকে দোষীও সাব্যস্ত করা হয়নি।
