যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (টিএমটিজি) চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২৩৮ মিলিয়ন ডলার নিট লোকসান করেছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।
সোমবার (১০ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) জমা দেওয়া আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর আল জাজিরার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকসানের বড় অংশ এসেছে ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল সম্পদের বিপরীতে রাখা জামানত এবং ইকুইটি সিকিউরিটিতে ১৯০ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অবাস্তবায়িত লোকসান থেকে।
এ ছাড়া ঋণের মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া অপরিশোধিত সুদ বাবদ ১১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার এবং শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিক হিসেবে ৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় ৮৯ শতাংশ বেড়েছে। যদিও আয় বৃদ্ধির পরও মোট লোকসানের পরিমাণ ছিল আয়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি।
এসইসিতে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টিএমটিজির প্রায় পুরো আয়ই এসেছে মিডিয়া ব্যবসা থেকে। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন থেকে আয় হয়েছে ১ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং গ্রাহক সাবস্ক্রিপশন থেকে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ ডলার।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির মোট নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৬৪৪ মিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে আয় হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। নাসডাকে ‘ডিজেটি’ প্রতীকে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম সোমবার দিনের লেনদেন শেষে প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়।
ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের অধীনে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল, ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা ট্রুথ প্লাস এবং আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ট্রুথ ফাই। গত এক বছরে ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ নতুন কয়েকটি খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া চলতি মাসের ১ আগস্ট থেকে ট্রুথ এপিআই নামের সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবার মাধ্যমে বাজারসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের ব্যবসায় প্রবেশ করেছে টিএমটিজি।
ট্রুথ এপিআইয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে দ্রুত প্রবেশের সুযোগ পান। ট্রাম্প নিয়মিত এই প্ল্যাটফর্মে শুল্কনীতি, ইরানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে এমন মন্তব্য করেন, যা আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমবার আয়সংক্রান্ত আলোচনায় টিএমটিজির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন ম্যাকগার্ন জানান, ইতিমধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান ট্রুথ এপিআইয়ের সেবা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে ট্রাম্পের পোস্টগুলো বাজারে প্রভাব ফেললেও ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে ট্রুথ সোশ্যাল এখনো এক্স ও ফেসবুকের মতো বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের সোমবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান সিমিলারওয়েবের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে ট্রুথ সোশ্যালের দর্শনার্থীর সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কমেছে।
সূত্র: আল জাজিরা, নিউইয়র্ক টাইমস
