শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

তেভার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করল বিশ্বের বৃহত্তম নার্সিং সংগঠন

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬

তেভার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করল বিশ্বের বৃহত্তম নার্সিং সংগঠন

ইসরায়েলি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তেভার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বিশ্বের বৃহত্তম নার্সিং সংগঠন রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং (আরসিএন)। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তেভার সম্পর্ক এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আরসিএন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লন্ডনে আরসিএনের সদর দপ্তরে আগামী ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় একটি অনুষ্ঠানের স্পনসর ও অংশীদার হিসেবে তেভা ইউকের নাম প্রত্যাহার করেছে সংগঠনটি।

প্রায় ছয় লাখ নার্সের প্রতিনিধিত্বকারী আরসিএন। নার্সেস ফর প্যালেস্টাইন এবং ইউকে হেলথকেয়ার পিটিশনস টু রয়্যাল কলেজেসের প্রচারণার পর তেভার সঙ্গে অংশীদারত্ব পুনর্বিবেচনা করে সংগঠনটি।

নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি খোলা চিঠিতেও তেভার সঙ্গে আরসিএনের অংশীদারত্বের সমালোচনা করা হয়। চিঠিতে তেভাকে ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন অনিয়মের জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়।

নার্সেস ফর প্যালেস্টাইনকে দেওয়া এক চিঠিতে সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেন আরসিএন কাউন্সিলের চেয়ার কারমেল ও’বয়েল। তিনি জানান, তেভা ইউকের সঙ্গে আরসিএনের আর কোনো বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব থাকবে না। তবে ৩০ অক্টোবরের নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

আরসিএন বলেছে, অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর তেভা ফার্মাসিউটিক্যালসের কিছু কার্যক্রম নিয়ে আইনি নিষেধাজ্ঞা ও জনসমালোচনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয় সংগঠনটির এবং এর শিক্ষা ও প্রকাশনা শাখা আরসিএনআইয়ের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করেছে আরসিএন।

সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন। তারা এটিকে বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস বা বিডিএস আন্দোলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে আরসিএনের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে তেভা। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আরসিএন স্বাস্থ্যসেবাকে রাজনীতিকরণের সুযোগ দিয়েছে।

তেভা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে দাম নির্ধারণে কারসাজি, ঘুষ এবং বাজারে প্রভাবের অপব্যবহারের অভিযোগে ইউরোপীয় কমিশন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড বা ১৩০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে।

এ ছাড়া দাম নির্ধারণে কারসাজির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে তেভার বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলাও চলমান রয়েছে।