উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকি মোকাবিলায় ড্রোন সক্ষমতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ পরিকল্পনার আওতায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও মেরিন কোরের প্রায় পাঁচ লাখ সদস্যকে ড্রোন পরিচালনা ও ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। খবর রয়টার্সের।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হাজার হাজার মানববিহীন উড়োজাহাজ (ড্রোন) সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে মোতায়েন করা হবে। লক্ষ্য হলো ড্রোনকে প্রতিটি সেনার নিয়মিত যুদ্ধ সরঞ্জামের অংশে পরিণত করা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক বলেন, শুরুতে ২০২৯ সালের মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও পরে তা কমিয়ে প্রায় ৬০ হাজার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালেই প্রায় ১১ হাজার ড্রোন সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, ড্রোন আর শুধু বিশেষায়িত ইউনিটের অস্ত্র থাকবে না। এটি প্রতিটি সেনার দ্বিতীয় ব্যক্তিগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সামরিক ড্রোন তৈরিতে শতভাগ দেশীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে। এতে কোনো চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে না।
মন্ত্রণালয়ের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দেখিয়েছে যে, তুলনামূলক কম খরচের ড্রোনও আধুনিক যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে। একই সময়ে উত্তর কোরিয়াও তাদের ড্রোন সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লেজার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভভিত্তিক ড্রোন-বিধ্বংসী ব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বাহিনীকে এমন সক্ষমতা দেওয়া হবে, যাতে তারা কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অপেক্ষা না করে নিজস্ব ড্রোন দিয়ে নজরদারি ও হামলা পরিচালনা করতে পারে।
একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, শিগগিরই ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ড্রোন-সোয়ার্ম প্রযুক্তি এবং লয়টারিং মিউনিশনও সামরিক বহরে যুক্ত করা হবে।
