মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন রাজ্যে একটি পরিত্যক্ত জেড পাথরের খনিতে ভূমিধসে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের ধসে পড়া বর্জ্যের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর এএফপির।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে খনিটির বর্জ্যের বিশাল স্তূপ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। পরে সেটি ধসে গেলে সেখানে মূল্যবান জেড পাথরের খোঁজে কাজ করা শ্রমিকেরা মাটিচাপা পড়েন।
রাষ্ট্রীয় দৈনিক গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ অন্তত ১৫ জনকে উদ্ধারে খনিতে তল্লাশি ও খননকাজ চলছে।
সংবাদমাধ্যমটির তথ্যমতে, গত রোববার কাচিন রাজ্যের হাকান্ত টাউনশিপে ফ্লাডলাইটের আলোয় প্রায় ২০ জন অনিবন্ধিত জেড আহরণকারী কাজ করছিলেন। এ সময় আকস্মিক ভূমিধসে তাঁরা মাটির নিচে চাপা পড়েন।
মিয়ানমারের খনিজ খাতে নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষা ও অনিয়ন্ত্রিত খনন দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে কাচিন রাজ্যের হাকান্ত অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জেড পাথরের উৎস হিসেবে পরিচিত। প্রতিবেশী চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই মূল্যবান পাথরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের পতনের পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত বেড়েছে। কাচিনের বেশ কয়েকটি জেড খনি বর্তমানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব খনি থেকে আহরিত পাথর বিক্রির অর্থ তাদের কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্বল অবকাঠামো, অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা এবং বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মিয়ানমারের জেড খনিগুলোতে প্রায়ই প্রাণঘাতী ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
