রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

স্বাধীনতা দিবসের দুই দিন পর ফিলাডেলফিয়ার মসজিদে অগ্নিসংযোগ, হেট ক্রাইমের অভিযোগে তদন্ত

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬

স্বাধীনতা দিবসের দুই দিন পর ফিলাডেলফিয়ার মসজিদে অগ্নিসংযোগ, হেট ক্রাইমের অভিযোগে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের দুই দিনের মাথায় পেনসিলভানিয়ার নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়া ইসলামিক সেন্টারে (টাইসন মসজিদ) অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। এটি ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ (হেট ক্রাইম) কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে মোট ১০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুলাই রাত প্রায় ২টার দিকে মুখোশধারী এক ব্যক্তি আগুন জ্বালানো একটি ব্যাগ মসজিদের প্রধান প্রবেশপথে ছুড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি মসজিদের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়া এক নারী খাবার সরবরাহকারী আগুন দেখতে পেয়ে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। পরে দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কয়েক মিনিট দেরি হলে পুরো মসজিদটি আগুনে পুড়ে যেতে পারত।

ঘটনার পর বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ প্রাঙ্গণে আন্তধর্মীয় সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি কংগ্রেস সদস্য, অঙ্গরাজ্যের সিনেটর, সিটি কাউন্সিল সদস্য, শেরিফ, মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন কমিউনিটি নেতা অংশ নেন। তাঁদের সবার বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

ফিলাডেলফিয়া সিটি কমিশনার্স বোর্ডের চেয়ারম্যান ওমর সাবির বলেন, “মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, এটি একটি কমিউনিটির প্রাণকেন্দ্র। একটি মসজিদকে লক্ষ্যবস্তু করা মানে প্রতিটি গির্জা, সিনাগগ ও উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা।”

তিনি ব্যক্তিগতভাবে ২ হাজার ৫০০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেন। এর আগে ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস (এটিএফ) ৫ হাজার ডলার এবং কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) ফিলাডেলফিয়া শাখা ২ হাজার ৫০০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করায় মোট পুরস্কারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়া ইসলামিক সেন্টারের সভাপতি মাসুখুল ইসলাম খান বলেন, “আল্লাহর রহমতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। কিন্তু এই হামলা শুধু একটি ভবনের ওপর নয়, আমাদের বিশ্বাস, নিরাপত্তাবোধ ও সম্প্রীতির ওপর আঘাত। ঘৃণা আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।”

ফিলাডেলফিয়া সিটি কাউন্সিলের সদস্য ড. নীনা আহমেদ বলেন, ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো সম্প্রদায়কে একা ফেলে রাখা যাবে না।

ফিলাডেলফিয়ার মেয়রের মুসলিম এনগেজমেন্টবিষয়ক পরিচালক ইমাম কুয়াসিয়ার আবদুল্লাহ বলেন, “মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে আমরা ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলেছি। আজ একটি উপাসনালয়ে হামলার জবাব দিতে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ভয় দেখিয়ে কখনো স্তব্ধ করা যাবে না।”

পেনসিলভানিয়ার সিনেটর শরীফ স্ট্রিট বলেন, “এটি শুধু অগ্নিসংযোগ নয়; এটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা। যদি এটি হেট ক্রাইম হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে এর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ব্রেন্ডান বয়েল বলেন, “উপাসনালয় শান্তি, নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের প্রতীক। এগুলো কখনো ঘৃণা ও সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না।”

অনুষ্ঠানে কেয়ার পেনসিলভানিয়ার নির্বাহী পরিচালক আহমেত সালাম তেকেলিওগ্লু বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, ঘৃণার বিরুদ্ধে আমেরিকার মানুষ এখনো একসঙ্গে দাঁড়াতে জানে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য অনুদান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনকে শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।