বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে এবার গুনতে হবে আরও বেশি অর্থ

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে এবার গুনতে হবে আরও বেশি অর্থ

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে চাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য এল এক কঠিন খবর। ট্রাম্প প্রশাসন ২২ জুন সোমবার একটি প্রস্তাবিত নিয়ম প্রকাশ করেছে, যেখানে নাগরিকত্বের আবেদন ফি এক লাফে ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ফেডারেল রেজিস্টারে পোস্ট করা এই প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ কাগজপত্র দাখিলের ফি বর্তমান ৭৬০ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১,৩৩০ ডলারে — অর্থাৎ একজন আবেদনকারীকে অতিরিক্ত গুনতে হবে ৫৭০ ডলার। এছাড়া আপিল বোর্ডে পুনর্বিবেচনার আবেদন ফিও ৮৩০ ডলার থেকে বেড়ে হবে ১,৪৭৫ ডলার, যা প্রায় ৭৭.৭ শতাংশ বৃদ্ধি।

প্রস্তাবটি এখন ৬০ দিনের পাবলিক কমেন্ট পিরিয়ডে রয়েছে, এরপরই তা কার্যকর হতে পারে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) বলছে, বর্তমান ফি দিয়ে নাগরিকত্বের আবেদন যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করার খরচ উঠছে না। বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী স্ক্রিনিং ও ভেটিং প্রক্রিয়া আরও কড়া করা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। উল্লেখ্য, USCIS বা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস সম্পূর্ণভাবে এই ফি থেকেই চলে — সরকারি ট্যাক্স থেকে এক পয়সাও আসে না।

এই প্রস্তাবে আরও একটি বড় ধাক্কা আছে — বেশিরভাগ ফি মওকুফের সুবিধা বাতিল করা হচ্ছে। তবে বর্তমান ও সাবেক সামরিক সদস্যরা এই ফি থেকে অব্যাহতি পাবেন। বাফেলো, নিউইয়র্কের অভিবাসন আইনজীবী রোজান্না বেরার্দি এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “ফি বাড়ানো, মওকুফ বাতিল করা এবং নতুন যাচাই স্তর যোগ করা — এগুলো একসাথে করা মানে সিস্টেম সহজ করা নয়, বরং ভেতর থেকে দেয়াল তোলা।”

ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বের আবেদনে সোশ্যাল মিডিয়া চেক, প্রতিবেশী যাচাই এবং ‘ভালো নৈতিক চরিত্র’ বিষয়ক আরও কড়া তদন্ত চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া আগে থেকেই একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া — গ্রিন কার্ড বা মার্কিন নাগরিকের সাথে বিবাহ, সম্পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড তদন্ত, সাক্ষাৎকার এবং নাগরিকজ্ঞান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। এখন সেই কঠিন পথ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন।