নিউইয়র্ক স্টেটের বহুল আলোচিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীদের কেউই জয়লাভ করতে পারেননি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত ফলে কয়েকটি আসনে তারা উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন।
সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হয় স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩০ আসনে। সেখানে সাবেক এনওয়াইপিডি ডিটেকটিভ ও বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি নেতা শামসুল হক মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিনেজ পেয়েছেন ২ হাজার ৭০৩ ভোট, আর শামসুল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯০ ভোট। মোট ৬ হাজার ৩৩৬ ভোটের নির্বাচনে এই ফলাফল বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক বড় আক্ষেপ হয়ে এসেছে।
ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত কম হওয়ায় শামসুল হকের পক্ষ থেকে পুনর্গণনার দাবি জানানো হতে পারে। পাশাপাশি আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মূল নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।
এ ছাড়া অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ আসনে মেরি জোবাইদা, ডিস্ট্রিক্ট-৮৭ আসনে সিপিএ জাকির চৌধুরী, ডিস্ট্রিক্ট-৩২ আসনে মোহাম্মদ মোল্লা (সানি) এবং ডিস্ট্রিক্ট-৩৭ আসনে পিয়া রহমানও প্রাইমারি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।
ডিস্ট্রিক্ট ৩৬-এ মেরি জোবাইদা পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৮ ভোট। বিজয়ী ডায়ানা মোরেনো পেয়েছেন ৯ হাজার ৫১ ভোট। মেরি জোবাইদা ছিলেন একমাত্র বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী প্রার্থী। এর আগেও তিনি একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যখন বর্তমান নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি স্টেট অ্যাসেম্বলি ছেড়ে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেন, তখন ওই আসনের উপনির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু এবারও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি।
ডিস্ট্রিক্ট-৩৭ আসনে পিয়া রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৮২৭ ভোট। এই আসনে বিজয়ী সামান্থা
কাটান পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৩৬ ভোট। ডিস্ট্রিক্ট ৩২-এ প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে মোহাম্মদ মোল্লা পেয়েছেন ৭৫৫ ভোট। সেখানে বিজয়ী নাথানিয়েল হেজেকিয়াহ পেয়েছেন ৩ হাজার ৬১৭ ভোট। প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েও মোহাম্মদ মোল্লার প্রচারণা স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে কিছুটা আলোচনার জন্ম দেন। ব্রঙ্কসের ডিস্ট্রিক্ট ৮৭-এ প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জাকির চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৬০৯ ভোট। বিজয়ী কারিনেস রেয়েস পেয়েছেন ৪ হাজার ১০০ ভোট।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ফলাফল কেবল কয়েকজন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীর পরাজয়ের ঘটনা নয়; বরং এটি নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক অবস্থান ও সম্ভাবনার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। গত এক দশকে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও সেই তুলনায় মূলধারার রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব এখনও সীমিত।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি বড় অংশ এখনো নিজস্ব কমিউনিটিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সক্রিয়। ফলে বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক নির্বাচনী এলাকায় জয়লাভ করতে হলে শুধু বাংলাদেশি ভোট নয়, আফ্রিকান-আমেরিকান, লাতিনো, শ্বেতাঙ্গ, এশীয় এবং তরুণ ভোটারদেরও আস্থা অর্জন করতে হয়।
