মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত গাজায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির। তিনি বলেছেন, হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করা হলে সংগঠনটি পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ পাবে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বেন গাভির বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর হামাসের প্রতিটি সদস্যের হাত রক্তে রঞ্জিত। তাই সংগঠনটির সদস্যদের লক্ষ্য করে অভিযান বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া মানে তাদের ভবিষ্যৎ হামলার জন্য প্রস্তুতির সুযোগ করে দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে এবং ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছা অভিবাসনে উৎসাহিত করতে হবে। তাঁর ভাষায়, শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকেই বিজয়ী হতে হবে।
এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, গাজা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক অগ্রগতির খবর প্রকাশিত হলেও ইসরায়েলের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, হামাসের প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বর্তমান ‘ইয়েলো লাইন’ থেকে কোনো সেনা সরাবে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার একই কর্মকর্তা বলেন, ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা ইসরায়েলের শর্ত পূরণ করছে না। কারণ, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের পূর্বশর্ত হিসেবে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণই ইসরায়েলের প্রধান দাবি।
তবে বোর্ড অব পিসের পরিকল্পনায় হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র হস্তান্তরে সম্মতি জানিয়েছে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইসরায়েলের গাজায় সেনা উপস্থিতি কমিয়ে পূর্ববর্তী অবস্থানে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সেনা প্রত্যাহার শুরু হতে পারত। তবে হামাস সতর্ক করে জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি পূর্বনির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’-এ ফিরে না যায়, তাহলে অস্ত্র হস্তান্তর প্রক্রিয়াও এগোবে না।
এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণে সম্মতির বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসরায়েল বাধা দিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত হতাশ হবেন।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
