জর্ডানের রাজধানী আম্মানে ভিক্ষা করার সময় এক নারীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তার কাছে পাওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৭ লাখ টাকা।
দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানায়, ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে আম্মানের কেন্দ্রীয় এলাকায় ওই নারীকে আটক করা হয়। অভিযানে জর্ডানের সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ভিক্ষাবিরোধী দলের পাশাপাশি দেশটির পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের সদস্যরা অংশ নেন।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করে বিপুল অর্থ জমিয়েছিলেন। পরে সেই অর্থ বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করতেন তিনি। আটকের পর আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তে ওই নারী আগে থেকেই ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় জর্ডানের সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে সরাসরি ভিক্ষুকদের অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর পরিবর্তে অনুমোদিত দাতব্য সংস্থা ও সরকারি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহায়তা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তি অসুস্থতা বা আর্থিক সংকটের কথা বলে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করেন। তাই এ ধরনের দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জর্ডানে ভিক্ষাবৃত্তি আইনত নিষিদ্ধ। দেশটির ১৯৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৮৯ নম্বর ধারায় জনসমক্ষে ভিক্ষা করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ২০১৭ সালে আইনটি আরও কঠোর করা হয়।
আইন অনুযায়ী, শারীরিক অক্ষমতা বা ক্ষত দেখিয়ে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে রাস্তায় বা জনসমক্ষে অর্থ চাওয়াও অপরাধ। এমনকি ছদ্মবেশে সামান্য মূল্যের পণ্য বিক্রির নামে অর্থ চাওয়া বা যানজটে গাড়ি পরিষ্কার করে অর্থ নেওয়ার মতো কাজও এর আওতায় পড়তে পারে।
সাধারণ ভিক্ষাবৃত্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা আদালতের নির্দেশে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর বিধান রয়েছে। একই ব্যক্তি পেশাগতভাবে বারবার ভিক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়লে চার মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
