গ্রীষ্মের ছুটি শেষে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন হবে ১০ সেপ্টেম্বর। আর শিক্ষাবর্ষ শেষ হবে ২০২৭ সালের ২৮ জুন।
নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে স্কুলগুলোতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরাও বই, খাতা, কলম, পেনসিল, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করছেন। পাশাপাশি স্কুলে যাতায়াত ও দৈনন্দিন সময়সূচি ঠিক করার প্রস্তুতিও চলছে।
নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের সহায়তায় বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্কুল শুরুর সামগ্রী বিতরণ করছে। এসব প্যাকেজে সাধারণত খাতা, কলম, পেনসিলসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ থাকে।
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবে। তবে কেউ কেউ বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে স্কুলে যেতে পারে।
স্কুল শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের ঘুমের সময়সূচি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গ্রীষ্মের ছুটিতে দেরিতে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর জন্য সকালে স্কুলে যাওয়া কঠিন হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও পড়াশোনায় সহায়তা করে।
অভিভাবকদের স্কুলের নির্দেশনা, ক্লাসের সময়সূচি, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং স্কুলের নিয়মকানুন আগেই জেনে নিতে বলা হয়েছে। ছোট শিক্ষার্থীদের ব্যাগে অপ্রয়োজনীয় ভারী জিনিস না দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
স্কুলে যাতায়াতের পথ সম্পর্কেও আগে থেকে ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্কুল বাস, পাতালরেল, গণপরিবহন কিংবা হেঁটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা আগে থেকেই তাদের সঙ্গে যাতায়াতের পথ অনুশীলন করতে পারেন। পথচারী পারাপারের স্থান ব্যবহার ও ট্রাফিক সংকেত মেনে চলার বিষয়েও তাদের সচেতন করতে হবে।
নতুন শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আগের শিক্ষাবর্ষে যেসব বিষয়ে দুর্বলতা ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে উন্নতির পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খেলাধুলা, বই পড়া ও সৃজনশীল কাজের জন্যও সময় রাখার কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার, ট্যাবলেট ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের দিকেও অভিভাবকদের নজর রাখতে বলা হয়েছে। প্রযুক্তি পড়াশোনায় সহায়ক হলেও অতিরিক্ত গেম খেলা, ভিডিও দেখা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ঘুম ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত পানি পান তাদের সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। কোনো শিক্ষার্থীর বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন হলে স্কুল শুরুর আগেই কর্তৃপক্ষকে তা জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ছুটির পর স্কুলে ফিরতে গিয়ে কোনো কোনো শিক্ষার্থী উদ্বিগ্ন বা অস্বস্তিতে পড়তে পারে। নতুন শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে মানিয়ে নিতেও সময় লাগতে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সন্তানের উদ্বেগের কথা শুনে তাকে আশ্বস্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে তুলনা না করে নিজের অগ্রগতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডারে স্কুল ছুটি, ধর্মীয় ও জাতীয় দিবস, অভিভাবক-শিক্ষক সভা, শিক্ষক প্রশিক্ষণের দিন এবং রিজেন্টস পরীক্ষার তারিখ রয়েছে।
তবে ১০ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার তারিখটি শুধু নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোর জন্য প্রযোজ্য। বেসরকারি, ধর্মীয়, চার্টার ও অন্যান্য স্বতন্ত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ক্যালেন্ডার অনুসরণ করতে হবে।
আবহাওয়া বা জরুরি পরিস্থিতির কারণে স্কুলের কার্যক্রম পরিবর্তন হতে পারে। তাই অভিভাবকদের নিজ নিজ স্কুল এবং নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের সর্বশেষ নির্দেশনা নিয়মিত দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
