স্পেনে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে রাজধানী মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমেছেন লাখো মানুষ। শনিবারের বিক্ষোভ থেকে ভাড়ার দাম কমানো, ভাড়াটিয়াদের অধিকার সুরক্ষা এবং সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভের আয়োজকদের দাবি, মাদ্রিদে প্রায় ৫ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষের হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। বিক্ষোভকারীরা ভাড়ার দাম কমানো ও আবাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।
বিক্ষোভের বেশির ভাগ সময় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে মাদ্রিদে একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশি ব্যারিকেড সরিয়ে কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে দেন। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। কয়েকজন বিক্ষোভকারী একটি ভবনের ওপরের অংশে উঠে যান।
মাদ্রিদের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা পুয়ের্তা দেল সোলেও প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অবস্থান করছেন আবাসন আন্দোলনের কর্মীরা। শনিবার ছিল তাদের অবস্থানের সপ্তম রাত। আয়োজকদের হিসাবে, ওই রাতে সেখানে প্রায় ২ হাজার মানুষ ছিলেন।
বিক্ষোভের সমন্বয় করছে টেন্যান্টস ইউনিয়ন। সংগঠনটি ভাড়া ৫০ শতাংশ কমানো, অনির্দিষ্ট মেয়াদের ভাড়াচুক্তি চালু এবং বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটির মুখপাত্র ভ্যালেরিয়া রাকু বলেন, সাধারণ মানুষ যা চায় এবং রাজনৈতিক দলগুলো সংসদে যে সিদ্ধান্ত নেয়, তার মধ্যে বড় ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে।
মাদ্রিদের পাশাপাশি ভ্যালেন্সিয়া, বার্সেলোনা, সান সেবাস্তিয়ান, কাদিজ, লাস পালমাস দে গ্রান কানারিয়া এবং আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। ভ্যালেন্সিয়ায় বিক্ষোভকারীরা একটি আবাসন বিনিয়োগ সম্মেলনের দিকে মিছিল করেন। সেখানে পুলিশি বাধা ভেঙে কয়েকজন কর্মকর্তা লক্ষ্য করে বস্তু ছুড়ে দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এর মধ্যে শুক্রবার স্পেনের পার্লামেন্টে সরকারের দুটি আবাসনবিষয়ক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে প্রস্তাব দুটি আনা হয়েছিল।
প্রথম প্রস্তাবটি ১৭২ ভোটের বিপরীতে ১৭৮ ভোটে এবং দ্বিতীয়টি ১৬৬ ভোটের বিপরীতে ১৮৪ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। বিরোধী পিপলস পার্টি, ভক্স ও ইউপিএন প্রস্তাবগুলোর বিরুদ্ধে ভোট দেয়। আর জুনৎস ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
পার্লামেন্টে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। তিনি আগাম নির্বাচন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিরোধীরাও নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।
তবে জুনৎস সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। দলটির নেতারা প্রস্তাবগুলোকে দুর্বলভাবে তৈরি আইন হিসেবে সমালোচনা করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুনৎসের দেওয়া প্রস্তাবগুলো ইতিমধ্যে খসড়ায় যুক্ত করা হয়েছে।
আবাসনমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইয়োলান্ডা দিয়াজ বিক্ষোভ ও উচ্ছেদের জন্য বিরোধী নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইহো, ভক্স নেতা সান্তিয়াগো আবাসকাল ও জুনৎস নেত্রী মিরিয়াম নোগেরাসকে দায়ী করেছেন। তবে ফেইহো সরকারের সমালোচনা করে বাজেটের মাধ্যমে আবাসন সংকটের সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকালকে বাসা থেকে উচ্ছেদের পর আবাসন সংকট নিয়ে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়। প্রায় ৭০ বছর ধরে তিনি ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তাকে স্ট্রেচারে করে বাড়ি থেকে বের করে নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
আবাসন অধিকারকর্মীদের দাবি, একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাড়িটি কিনে নিয়ে তার ভাড়া ২৭৫ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে নতুন মালিকপক্ষ তাকে কম ভাড়ায় ওই বাড়িতে ফেরার সুযোগ দিতে রাজি হয়।
টেন্যান্টস ইউনিয়ন জানিয়েছে, আবাসন সংকট সমাধানে তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে তারা। একই সঙ্গে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
