শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়ায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত ৩ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়ায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত ৩ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ

ইন্দোনেশিয়ায় বন ও ভূমিতে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭০ জন। বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক থান সুয়ান্তি বলেন, প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বুধবারও ৪ হাজার ৫২২ জন নতুন করে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্তারা এ তথ্য জানিয়েছে।

সর্বশেষ বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে বাতাসের মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিয়াউ, জাম্বি, দক্ষিণ সুমাত্রা, পশ্চিম কালিমান্তান, দক্ষিণ কালিমান্তান ও মধ্য কালিমান্তান, এই ছয়টি প্রদেশে আগুন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

থান সুয়ান্তি বলেন, দাবানলের ধোঁয়ায় পিএম২.৫ নামের অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা, কার্বন মনোক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান থাকে। এসব উপাদানের সংস্পর্শে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, হাঁপানি, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ এবং চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে বন ও ভূমিতে বারবার আগুন লাগার ঘটনায় বিদেশি কোম্পানিগুলোর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, এসব ঘটনায় বিদেশি কোম্পানির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

প্রেসিডেন্ট জানান, কিছু কোম্পানি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন ও ভূমি ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে কয়েকটি কোম্পানি তিন, চার, এমনকি ১২ বার পর্যন্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। কোনো কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে ১৯ বার নিয়ম ভাঙার অভিযোগও রয়েছে।

প্রবোও সুবিয়ান্তো বলেন, কোনো কোম্পানি দুবার নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাদের অনুমতি বাতিল করা উচিত। বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের ব্যবসার অনুমতি বাতিল করা হতে পারে। এভাবে বাতিল হওয়া জমি ব্যবহারের অধিকার তরুণ ইন্দোনেশীয়দের দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, বন ও ভূমিতে আগুন লাগার ঘটনাকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করার দাবিতে পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের রাজধানী সামারিন্দায় বিক্ষোভ করেছেন হাজারো শিক্ষার্থী ও অন্যান্য মানুষ। সংবাদমাধ্যম আইনিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় এবার অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় ধরে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে। এর সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হয়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।