চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। ভূমিকম্পে ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে বৃহস্পতিবার রাতে ভূমিকম্পের এ তথ্য জানানো হয়। স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের নাগকু অঞ্চলের বাৎসেন কাউন্টিতে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল।
তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাৎসেন কাউন্টি।
ভূমিকম্পের পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের পাঠানো হয়েছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন তাঁরা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় পাথরধসে সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুর্গম ও উঁচু পার্বত্য এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। তিব্বতের কামদো ও নিংচি শহরেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতে ভবনগুলো প্রবলভাবে কাঁপতে থাকায় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসছেন। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিব্বত ও এর আশপাশের অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০২৩ সালে চীনের পার্বত্য গানসু প্রদেশে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
এ ছাড়া হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে সম্প্রতি তিব্বত ও নেপালের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
