ইরানে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের কাঠামো আরও বেশি আলোচনায় এসেছে।
বিবিসি ফার্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার ভারসাম্য ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে তার ভূমিকা থাকলেও তিনি এখনো জনসমক্ষে খুব বেশি দেখা দেননি।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনায় থাকা প্রতিনিধিরা খামেনির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন। তবে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় থাকা ইরানের প্রতিনিধিদলে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। গালিবাফের সঙ্গে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসি শুধু সামরিক বাহিনী নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াতেও প্রভাব বিস্তার করে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাহিনীটি বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার হারালেও তাদের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিয়মিত বক্তব্য দিলেও বাস্তবে তার ক্ষমতার পরিসর নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের প্রকৃত ক্ষমতা কাঠামো এখনও নিরাপত্তা ও প্রভাবশালী অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলোর মধ্যেই কেন্দ্রীভূত।
সূত্র : বিবিসি ও সিবিসি নিউজ
