ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করার মাধ্যমে এ চুক্তি কার্যকর করেছেন। আল জাজিরা ও সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মেনে নেওয়ার পর আলোচনায় অগ্রগতি আসে। সমঝোতার কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম।
চুক্তির অন্যতম দফায় ইরান পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে দেশটি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। একই সঙ্গে উভয় দেশ পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ইরানের মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া নিয়ে একমত হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এবং দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সমঝোতা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে ন্যূনতম প্রযুক্তিগত পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্ধারিত স্থানে ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় (ডাউনব্লেন্ড) করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামোর আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
এ ছাড়া ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক চাহিদা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে। সমঝোতার নথিতে বলা হয়েছে, পারমাণবিক ইস্যুগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশ দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বাকি বিষয়গুলোর সমাধানে কাজ করবে।
দীর্ঘ আলোচনার পর সমঝোতা স্মারকে ইলেকট্রনিকভাবে সই করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসউদ পেজেশকিয়ান। তাদের সইয়ের পর থেকেই চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নের সময়সীমা গণনা শুরু হয়েছে।
