বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যস্ত কূটনীতি, পাকিস্তান-ভিয়েতনাম ও জাতিসংঘ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

বুধবার, জুলাই ৮, ২০২৬

নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যস্ত কূটনীতি, পাকিস্তান-ভিয়েতনাম ও জাতিসংঘ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পাকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বৈঠকগুলোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসন, মানবপাচার দমন, শান্তিরক্ষা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড) প্রাপ্তিতে বিদ্যমান মানবিক জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। 

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী।

ভিয়েতনামের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লংয়ের সঙ্গে বৈঠকে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, কনসুলার সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মানবপাচার ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ভিয়েতনামের উপমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ও শান্তিনির্মাণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তিনির্মাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রোজমেরি এ. ডি-কার্লোর সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসইভাবে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও জোরালো সহায়তা কামনা করেন।

বৈঠকে রোজমেরি এ. ডি-কার্লো আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।