বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও নিতে যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর আগে সিনেটেও জয় পেয়েছে দলটি। এর ফলে কয়েক বছর পর প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেল ডেমোক্র্যাটরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে অন্তত ২২০টি আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ২১৮টি আসন। বিশ্লেষকদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত দলটির আসনসংখ্যা ২৫৫ পর্যন্ত হতে পারে।

এই ফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনে ভোটাররা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া, নিউ জার্সি, ইন্ডিয়ানা, কলোরাডো ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।

পেনসিলভানিয়ায় রিপাবলিকান পার্টির চারজন বর্তমান প্রতিনিধি পরাজিত হয়েছেন। ভার্জিনিয়ায় নিজের পুরোনো আসন পুনরুদ্ধার করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এলেইন লুরিয়া। একই অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান প্রতিনিধি রব উইটম্যানকে হারিয়েছেন শ্যানন টেইলর। নিউ জার্সিতে রিপাবলিকান প্রতিনিধি টম কিন জুনিয়রকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রেবেকা বেনেট।

এ ছাড়া ইন্ডিয়ানায় রিপাবলিকান প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া স্পার্টজ এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় রিচার্ড হাডসনও নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির প্রতি সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ এবং জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় আইন প্রণয়ন, তদন্ত এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারিতে বাড়তি ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা।

নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। এর ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে। এতে প্রশাসনের আইনগত ও নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।