বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

Author avatar
উত্তর আমেরিকা অফিস

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬

নিউইয়র্কে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন এই নীতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সরকারি স্কুল ব্যবস্থায় প্রায় ৯ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। নতুন নীতির আওতায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট ব্যবহারের সুযোগও সীমিত করা হবে।

স্কুলে এআই ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তাঁদের আশঙ্কা, প্রযুক্তিটির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নিজের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও যুক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার প্রবণতাকে গবেষকেরা ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বা ‘চিন্তার কাছে আত্মসমর্পণ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। এ ছাড়া এআই প্রযুক্তি পরিচালনায় প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ শক্তি ও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

নতুন নীতিতে নবম শ্রেণি থেকে, অর্থাৎ হাইস্কুল পর্যায়ে, শিক্ষার্থীদের সীমিত পরিসরে এআই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে প্রযুক্তি সম্পর্কে শেখা বা নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যেই এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকবে।

মানসিক সহায়তা দেওয়ার দাবি করা এআই-ভিত্তিক ‘কম্প্যানিয়ন চ্যাটবট’ও স্কুলগুলোতে নিষিদ্ধ করা হবে। অন্যদিকে শিক্ষকরা পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তা লেখা কিংবা প্রশাসনিক কিছু কাজে এআই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন বা নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না।

শিক্ষা বিভাগ মধ্যম পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট এবং প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ৩০ মিনিটে সীমিত রাখার সুপারিশ করেছে। তবে স্কুলের বাইরে শিক্ষার্থীরা এআই কীভাবে ব্যবহার করছে, তা নিয়ন্ত্রণ বা পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউইয়র্কের সরকারি স্কুল ব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে এর আগেও নীতিমালা নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত ওই কাঠামোয় বিভিন্ন শিক্ষামূলক কাজে এআই ব্যবহারের অনুমোদন নির্ধারণে ‘ট্রাফিক লাইট’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে নীতিমালাটি নিয়ে অনেক শিক্ষক ও অভিভাবক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য এআই ব্যবহারের সুযোগ সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রাখা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্ক সিটির স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস স্বীকার করেন, নীতিমালা নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ভুল করেছে। অভিভাবকদের মতামত পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ নীতিমালায় তা অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি।

দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়নের অংশ হিসেবে শিক্ষক, নির্বাচিত প্রতিনিধি, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করবে শিক্ষা বিভাগ। আগামী বছরের এপ্রিলে এই কমিটি একটি প্রতিবেদন দেবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলগুলোতে এআই ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা তৈরি করা হবে।