যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ১০ ডলার বা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৭৯ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৯৫ ডলার বা ৪ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৩৬ ডলারে ওঠে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক ও কেশম দ্বীপসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, অভিযানে ইরানের কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী একটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন।
নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা।
