যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হতে পারে। খবর বিবিসির।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পৃথক আলোচনা শুরু হবে।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারাও সম্ভাব্য চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তবে তাঁদের বক্তব্য, চুক্তির শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। একই সঙ্গে কার্যত অচল হয়ে পড়ে হরমুজ প্রণালি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। চলতি সপ্তাহেও দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ায় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান স্থগিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সমঝোতা চুক্তি খুব শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে।
শুক্রবার ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যমে কথিত ১৪ দফা চুক্তির কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে ট্রাম্প সেসব তথ্য নাকচ করে দিয়ে বলেন, প্রকাশিত শর্তগুলোর সঙ্গে প্রকৃত আলোচনার কোনো মিল নেই।
অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক চূড়ান্তকরণের অপেক্ষা।
