প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭ জুন রোববার এনবিসির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মিট দ্য প্রেস’-এর একটি সাক্ষাৎকার মাঝপথেই হঠাৎ করে ছেড়ে উঠে চলে যান। উপস্থাপিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সাথে জানুয়ারি ৬-এর দাঙ্গায় অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং তথাকথিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডার পর তিনি এই পদক্ষেপ নেন।
সাক্ষাৎকারটি শুক্রবার উইসকনসিনের চিপ্পেওয়া ফলসে একটি খামারবাড়িতে ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে ট্রাম্প পরবর্তীতে কৃষকদের সাথে একটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন। প্রায় ৫০ মিনিটের সাক্ষাৎকারে উত্তেজনা চরমে পৌঁছলে ট্রাম্প মাইক্রোফোন খুলে রেখে বলেন, “এবার শেষ করা যাক, কারণ আমি যথেষ্ট পেয়েছি। ধন্যবাদ ডার্লিং, ভালো থেকো।” এরপরই তিনি উঠে চলে যান।
মূল উত্তেজনার কেন্দ্রে ছিল ১৮০ কোটি ডলারের একটি প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণ তহবিল, যা ট্রাম্প তাদের জন্য চালু করতে চেয়েছেন যাদের তিনি মনে করেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফেডারেল সরকার কর্তৃক অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিচার বিভাগ আইআরএস-সংক্রান্ত মামলার আপোষ নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই তহবিল গঠনে সম্মত হলেও এটি আইনি চ্যালেঞ্জ ও কিছু রিপাবলিকান সিনেটরের বিরোধিতার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প জানান, এই উদ্যোগে তাঁর সমর্থন অটুট রয়েছে এবং তিনি বলেন, সুযোগ পেলে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতেন।
ওয়েলকার যখন প্রশ্ন করেন, জানুয়ারি ৬-এর ঘটনায় পুলিশ অফিসারদের ওপর হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরাও কি এই ক্ষতিপূরণ পাবেন, ট্রাম্প দাবি করেন জানুয়ারি ৬-এর বহু অভিযুক্তকে অন্যায়ভাবে বিচারের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এবং চাপের মুখে দোষ স্বীকারে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই মানুষগুলোকে নোংরা পুলিশ এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহারের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের অনেককেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।”
এরপর বিষয় গড়ায় নির্বাচন নিয়ে। ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাইমারি নির্বাচন নিয়ে আবারও কারচুপির অভিযোগ তোলেন। ওয়েলকার বলেন এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। ট্রাম্প ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় ভোট গণনা চলার বিষয়টিকে সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেন। ওয়েলকার বলেন, “সেটা কিন্তু কোনো প্রমাণ নয়।” এই পালটাপালটিতে উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং ট্রাম্প এনবিসিসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের কড়া সমালোচনা করতে শুরু করেন, এরপরই তিনি মাইক খুলে রেখে চলে যান।
পরে কৃষকদের সমাবেশে ট্রাম্প নিজেই হালকা সুরে বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, “বৃষ্টির কারণে আমি একটু রাগী হয়ে গিয়েছিলাম।” সাক্ষাৎকার চলাকালে খামারবাড়ির টিনের চালে মুষলধারে বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। হোয়াইট হাউস এবং এনবিসি উভয়ই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
