যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (ডিএফডব্লিউ) টার্মিনাল ডিতে মুসলিম যাত্রীদের জন্য ওজুর বিশেষ ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর দ্রুত প্রকল্পটি পর্যালোচনা করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার ডিএফডব্লিউ কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ডির নিরাপত্তা তল্লাশির আগের অংশে কয়েকটি ওজুর স্টেশন স্থাপনের একটি অভ্যন্তরীণ প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছিল। মুসলিম যাত্রীদের নামাজের আগে ওজু করার সুবিধার জন্য এসব স্টেশন তৈরির কথা ছিল।
তবে প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলে প্রত্যাশিত পরিচালনাগত সুবিধা পাওয়া যাবে না। ফলে এটি আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।
এর আগে ৩১ জুলাই টেক্সাসের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থায় প্রকল্পটির নিবন্ধন করা হয়েছিল। নথিতে সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩ লাখ ডলার এবং বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করার কথা উল্লেখ ছিল। তবে পরে ডিএফডব্লিউ কর্তৃপক্ষ জানায়, নকশা প্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে এসব তথ্য নথিতে উঠে এসেছিল।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রকল্পটি কখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। ৩ লাখ ডলারের ব্যয়ও ছিল প্রাথমিক সর্বোচ্চ হিসাব। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে প্রকৃত ব্যয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার হতে পারত।
এদিকে পরিকল্পনাটি বাতিলের আগেই এর বিরোধিতা করেছিলেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। শুক্রবার তিনি ডিএফডব্লিউ এবং হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরের সরকারি অনুদান পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।
অ্যাবট বলেন, সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দর কোনো একটি ধর্মকে অন্য ধর্মের তুলনায় বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না। দুই বিমানবন্দরের ধর্মীয় সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তের জন্য তিনি মার্কিন পরিবহন দপ্তর এবং ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি পাঠিয়েছেন।
অ্যাবটের দাবি, বিশেষভাবে মুসলিমদের জন্য ওজুর ব্যবস্থা করা হলে তা ধর্মের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার শামিল হতে পারে।
তবে ডিএফডব্লিউ কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিমানবন্দরের যেকোনো প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে যাত্রীসেবা, পরিচালনাগত সুবিধা, ঝুঁকি ও ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। বিমানবন্দর পরিচালনায় করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হয় না বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পার্কিং, দোকান ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে পাওয়া আয় দিয়েই বিমানবন্দর পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে, গভর্নর অ্যাবটের কার্যালয় জানিয়েছে, হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে এরই মধ্যে ওজুর ব্যবস্থা রয়েছে। এর পাশেই একটি নামাজের কক্ষও রয়েছে।
